ঢাকা ০২:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সাভারে উপজেলা পর্যায়ে গুণী শিক্ষক নির্বাচিত মোহাম্মদ নূর উদ্দিন

বন্ধ কারখানা চালুতে উদ্যোক্তাদের পাশে থাকব : গভর্নর


নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১১:৪৯:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
  • / ২০৮৯ বার পড়া হয়েছে

সংগৃহীত ছবি

বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু ও বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের সংকট নিরসনে বাংলাদেশ ব্যাংক সক্রিয়ভাবে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেন, আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া কিছু কারখানার পাশাপাশি ৫ আগস্টের পর আরও কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদন বন্ধ করেছে। এসব কারখানাকে দ্রুত উৎপাদনে ফিরিয়ে আনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যাতে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা ফিরে আসে এবং অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়। অন্যথায় এসব প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ক্ষয় হয়ে ব্যাংকও ঋণ পুনরুদ্ধারে ব্যর্থ হবে।

রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের বিজনেস এডিটর, সিনিয়র সাংবাদিক এবং ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) নেতারা অংশ নেন। সভায় দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয় এবং সাংবাদিকদের মতামত শোনেন গভর্নর।

গভর্নর জানান, বিনিয়োগ বাড়াতে আস্থার পরিবেশ তৈরি করা জরুরি এবং এ ক্ষেত্রে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক একসঙ্গে কাজ করছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অবদান রাখা বড় উদ্যোক্তাদের পাশে থাকার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। ইতোমধ্যে কয়েকজন উদ্যোক্তার সঙ্গে বৈঠক হয়েছে, ভবিষ্যতেও এই সংলাপ অব্যাহত থাকবে।

আর্থিক খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ধরনের চাপ বা প্রভাব যেন সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলতে না পারে, সে বিষয়ে কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার বিষয়ে তিনি বলেন, বৈশ্বিকভাবে এ ধরনের অর্থ পুনরুদ্ধার কঠিন হলেও বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্পদ পুনরুদ্ধারকারী সংস্থা ও মামলা অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যাতে আমানতকারীদের অর্থ ফিরিয়ে দেওয়া যায়।

স্টার্টআপ খাতকে সহায়তা দিতে ৬০০ কোটি টাকার একটি তহবিল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এপ্রিল থেকে কার্যক্রম শুরু হয়ে জুনে ঋণ বিতরণ শুরু হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম উদ্যোগগুলো অগ্রাধিকার পাবে বলে জানান গভর্নর।

তিনি আরও বলেন, অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়িয়ে অর্থনীতির আকার বড় করতে হবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে হবে। কর-জিডিপি অনুপাত ৭ শতাংশের নিচে থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আশা করেন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়লে রাজস্ব আহরণও বাড়বে।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের বিষয়ে গভর্নর বলেন, এ উদ্যোগ থেকে সরে আসার সুযোগ নেই। পেশাদার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে নতুন এমডি ও চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং সেবার মান উন্নয়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুতির কথাও তুলে ধরেন গভর্নর। তিনি বলেন, সংঘাত তিন থেকে চার মাস স্থায়ী হলেও আমদানি ব্যয় মেটাতে পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে এবং বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যালান্স অব পেমেন্টে চাপ কমাতে দুই বিলিয়ন ডলারের ঋণ নেওয়ার উদ্যোগ চলছে। এছাড়া ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ার আশা করা হচ্ছে এবং আইএমএফ থেকে জুনে ১.৫ বিলিয়ন ডলার পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জ্বালানি আমদানিতে বিকল্প উৎস খোঁজার কাজও চলছে।

তবে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে ঝুঁকি বাড়বে বলে সতর্ক করেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বাংলাদেশিদের দেশে ফিরে আসার সম্ভাবনা তৈরি হলে রেমিট্যান্স কমে যেতে পারে এবং দেশে কর্মসংস্থানের ওপর চাপ বাড়বে। জ্বালানিতে ভর্তুকি কমানোর চাপ মূল্যস্ফীতি বাড়াতে পারে এবং রাজস্ব আহরণের দুর্বলতা বাজেট ঘাটতি সৃষ্টি করতে পারে।

কৃষিখাতে সহায়তা বাড়াতে কৃষিঋণের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো ও নতুন পুনরর্থায়ন স্কিম চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান গভর্নর। পাশাপাশি রাজস্ব আদায় বাড়াতে আগামী ১ জুলাই থেকে বাংলা কিউআর কোড ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বিনিয়োগ ও রাজস্ব প্রবৃদ্ধির ধীরগতির মধ্যেও জবাবদিহি ও সংস্কার অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

বন্ধ কারখানা চালুতে উদ্যোক্তাদের পাশে থাকব : গভর্নর

আপডেট সময় : ১১:৪৯:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু ও বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের সংকট নিরসনে বাংলাদেশ ব্যাংক সক্রিয়ভাবে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেন, আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া কিছু কারখানার পাশাপাশি ৫ আগস্টের পর আরও কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদন বন্ধ করেছে। এসব কারখানাকে দ্রুত উৎপাদনে ফিরিয়ে আনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যাতে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা ফিরে আসে এবং অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়। অন্যথায় এসব প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ক্ষয় হয়ে ব্যাংকও ঋণ পুনরুদ্ধারে ব্যর্থ হবে।

রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের বিজনেস এডিটর, সিনিয়র সাংবাদিক এবং ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) নেতারা অংশ নেন। সভায় দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয় এবং সাংবাদিকদের মতামত শোনেন গভর্নর।

গভর্নর জানান, বিনিয়োগ বাড়াতে আস্থার পরিবেশ তৈরি করা জরুরি এবং এ ক্ষেত্রে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক একসঙ্গে কাজ করছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অবদান রাখা বড় উদ্যোক্তাদের পাশে থাকার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। ইতোমধ্যে কয়েকজন উদ্যোক্তার সঙ্গে বৈঠক হয়েছে, ভবিষ্যতেও এই সংলাপ অব্যাহত থাকবে।

আর্থিক খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ধরনের চাপ বা প্রভাব যেন সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলতে না পারে, সে বিষয়ে কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার বিষয়ে তিনি বলেন, বৈশ্বিকভাবে এ ধরনের অর্থ পুনরুদ্ধার কঠিন হলেও বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্পদ পুনরুদ্ধারকারী সংস্থা ও মামলা অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যাতে আমানতকারীদের অর্থ ফিরিয়ে দেওয়া যায়।

স্টার্টআপ খাতকে সহায়তা দিতে ৬০০ কোটি টাকার একটি তহবিল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এপ্রিল থেকে কার্যক্রম শুরু হয়ে জুনে ঋণ বিতরণ শুরু হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম উদ্যোগগুলো অগ্রাধিকার পাবে বলে জানান গভর্নর।

তিনি আরও বলেন, অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়িয়ে অর্থনীতির আকার বড় করতে হবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে হবে। কর-জিডিপি অনুপাত ৭ শতাংশের নিচে থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আশা করেন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়লে রাজস্ব আহরণও বাড়বে।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের বিষয়ে গভর্নর বলেন, এ উদ্যোগ থেকে সরে আসার সুযোগ নেই। পেশাদার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে নতুন এমডি ও চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং সেবার মান উন্নয়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুতির কথাও তুলে ধরেন গভর্নর। তিনি বলেন, সংঘাত তিন থেকে চার মাস স্থায়ী হলেও আমদানি ব্যয় মেটাতে পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে এবং বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যালান্স অব পেমেন্টে চাপ কমাতে দুই বিলিয়ন ডলারের ঋণ নেওয়ার উদ্যোগ চলছে। এছাড়া ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ার আশা করা হচ্ছে এবং আইএমএফ থেকে জুনে ১.৫ বিলিয়ন ডলার পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জ্বালানি আমদানিতে বিকল্প উৎস খোঁজার কাজও চলছে।

তবে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে ঝুঁকি বাড়বে বলে সতর্ক করেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বাংলাদেশিদের দেশে ফিরে আসার সম্ভাবনা তৈরি হলে রেমিট্যান্স কমে যেতে পারে এবং দেশে কর্মসংস্থানের ওপর চাপ বাড়বে। জ্বালানিতে ভর্তুকি কমানোর চাপ মূল্যস্ফীতি বাড়াতে পারে এবং রাজস্ব আহরণের দুর্বলতা বাজেট ঘাটতি সৃষ্টি করতে পারে।

কৃষিখাতে সহায়তা বাড়াতে কৃষিঋণের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো ও নতুন পুনরর্থায়ন স্কিম চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান গভর্নর। পাশাপাশি রাজস্ব আদায় বাড়াতে আগামী ১ জুলাই থেকে বাংলা কিউআর কোড ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বিনিয়োগ ও রাজস্ব প্রবৃদ্ধির ধীরগতির মধ্যেও জবাবদিহি ও সংস্কার অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।