ঢাকা ০৬:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সাভারে উপজেলা পর্যায়ে গুণী শিক্ষক নির্বাচিত মোহাম্মদ নূর উদ্দিন

শিক্ষক ২০, পরীক্ষার্থী ১২ কেন সবাই ফেল?

অনুসন্ধানে ময়মনসিংহের শিক্ষা চিত্র


মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, ময়মনসিংহ
  • আপডেট সময় : ০৩:৩২:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • / ২০৯৩ বার পড়া হয়েছে

ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে সামগ্রিকভাবে পাসের হার ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ হলেও কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বোর্ডের অধীন চারটি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই এবার পাস করতে পারেনি। এর মধ্যে কোথাও পাঁচ পরীক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক ছিলেন সাতজন, আবার একটি মাদরাসায় ২০ জন শিক্ষক থাকার পরও দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১২ শিক্ষার্থীর কেউ উত্তীর্ণ হয়নি।

শুধু ফলাফল নয়, শিক্ষার্থী ভর্তি ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়েও একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব ঘটনায় প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদানের মান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত এবং প্রশাসনিক নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নাগরিক নেতা সাব্বির ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। গত সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত ফলাফল ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মগটুলা ইউনিয়নের বৈরাটি সিনিয়র আলিম মাদরাসা থেকে এবার দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয় ১২ জন শিক্ষার্থী। তাঁদের পাঠদানের দায়িত্বে ছিলেন ২০ জন শিক্ষক। কিন্তু ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, ১২ জনের কেউই উত্তীর্ণ হয়নি। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঈশ্বরগঞ্জের ২৩টি মাদরাসা থেকে এবার ৮৯৭ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাঁদের মধ্যে ৪০৭ জন পাস করেছে। তিনজন পেয়েছে জিপিএ-৫। মাদরাসা পর্যায়ে উপজেলার গড় পাসের হার ৪৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

বৈরাটি সিনিয়র আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান বলেন, শিক্ষার্থীরা নিয়মিত মাদরাসায় আসত না। আগে শিক্ষকসংকট ও জরাজীর্ণ অবকাঠামো ছিল। সম্প্রতি শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আগামী বছর ভালো ফলের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে ২০ জন শিক্ষক থাকার পরও ১২ পরীক্ষার্থীর কেউ পাস না করার বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ এটিকে ‘লজ্জার কথা’ বলে মন্তব্য করেন এবং এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন।

এদিকে ফুলবাড়িয়ার শহীদ স্মৃতি গার্লস হাইস্কুল থেকেও এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পাঁচজন শিক্ষার্থীর কেউ পাস করেনি। তাঁদের পাঠদানের জন্য বিদ্যালয়ে শিক্ষক ছিলেন সাতজন। ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বর্তমানে প্রায় ৯৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রধান শিক্ষক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি ফল খারাপ হওয়ার অন্যতম কারণ। অভিভাবকদের নিয়ে সভা করেও কাঙ্ক্ষিত সাড়া পাওয়া যায়নি। শিক্ষার্থীদের মুঠোফোনে আসক্তির কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য, এ ফলাফলের দায় শিক্ষকদেরও রয়েছে। শিক্ষকদের বেতন দিতে না পারায় তাঁদের ওপর প্রয়োজনীয় চাপ প্রয়োগ করা সম্ভব হয়নি।

মুক্তাগাছা মহাবিদ্যালয়ের মাধ্যমিক শাখায় চার বছর ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ। কিন্তু এবার ওই প্রতিষ্ঠানের নামে চারজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাঁদের কেউই পাস করেনি। জানা গেছে, এমএন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ নামের একটি অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মুক্তাগাছা মহাবিদ্যালয়ের নামে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

মুক্তাগাছা মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বজরং আগারওয়ালা বলেন, মানবিক কারণে আগের অধ্যক্ষ ওই শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিয়েছিলেন। তবে এবার চারজন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছে—এ বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না।

ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. শাহাদত উল্লাহ বলেন, বোর্ডের আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ফরম পূরণ করা হয়েছে। তাই এ ঘটনার দায়ভার প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের। নিজস্ব শিক্ষার্থী না থাকা সত্ত্বেও অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দেওয়ানো অনিয়ম ও তথ্য গোপনের শামিল। প্রতিষ্ঠানটিকে তলব করা হবে এবং সন্তোষজনক জবাব না পেলে স্বীকৃতি বাতিলের সুপারিশ করা হতে পারে।

কমেছে বোর্ডের পাসের হার এবার ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৫৩ হাজার ৮৭৭ জন ছাত্রের মধ্যে পাস করেছে ২৮ হাজার ৩৭২ জন। পাসের হার ৫২ দশমিক ৬৬ শতাংশ। ৫১ হাজার ১৫১ জন ছাত্রীর মধ্যে পাস করেছে ৩১ হাজার ৯০২ জন। তাঁদের পাসের হার ৬২ দশমিক ৩৭ শতাংশ। ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের পাসের হার ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ বেশি। জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও মেয়েরা এগিয়ে। এবার বোর্ডে ৫ হাজার ৭০০ শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর মধ্যে ছাত্র ২ হাজার ৬২১ এবং ছাত্রী ৩ হাজার ৭৯ জন।

গত বছর বোর্ডে পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ২২ শতাংশ। এবার তা কমে হয়েছে ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ। ২০২৩ সালে পাসের হার ছিল ৮৫ দশমিক ৪৯ এবং ২০২৪ সালে ৮৫ শতাংশ। ফলে গত দুই বছরের তুলনায় পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কম। বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৭১ দশমিক ৮৭ শতাংশ, ব্যবসায় শিক্ষায় ৪৮ দশমিক ৯৯ শতাংশ এবং মানবিকে ৪৬ দশমিক ১২ শতাংশ।

ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক মো. এনামুল হক বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কিছুটা কমেছে। বিশেষ করে ইংরেজি ও গণিতে শিক্ষার্থীদের ফল তুলনামূলক খারাপ হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

শিক্ষক ২০, পরীক্ষার্থী ১২ কেন সবাই ফেল?

আপডেট সময় : ০৩:৩২:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে সামগ্রিকভাবে পাসের হার ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ হলেও কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বোর্ডের অধীন চারটি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই এবার পাস করতে পারেনি। এর মধ্যে কোথাও পাঁচ পরীক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক ছিলেন সাতজন, আবার একটি মাদরাসায় ২০ জন শিক্ষক থাকার পরও দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১২ শিক্ষার্থীর কেউ উত্তীর্ণ হয়নি।

শুধু ফলাফল নয়, শিক্ষার্থী ভর্তি ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়েও একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব ঘটনায় প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদানের মান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত এবং প্রশাসনিক নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নাগরিক নেতা সাব্বির ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। গত সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত ফলাফল ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মগটুলা ইউনিয়নের বৈরাটি সিনিয়র আলিম মাদরাসা থেকে এবার দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয় ১২ জন শিক্ষার্থী। তাঁদের পাঠদানের দায়িত্বে ছিলেন ২০ জন শিক্ষক। কিন্তু ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, ১২ জনের কেউই উত্তীর্ণ হয়নি। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঈশ্বরগঞ্জের ২৩টি মাদরাসা থেকে এবার ৮৯৭ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাঁদের মধ্যে ৪০৭ জন পাস করেছে। তিনজন পেয়েছে জিপিএ-৫। মাদরাসা পর্যায়ে উপজেলার গড় পাসের হার ৪৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

বৈরাটি সিনিয়র আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান বলেন, শিক্ষার্থীরা নিয়মিত মাদরাসায় আসত না। আগে শিক্ষকসংকট ও জরাজীর্ণ অবকাঠামো ছিল। সম্প্রতি শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আগামী বছর ভালো ফলের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে ২০ জন শিক্ষক থাকার পরও ১২ পরীক্ষার্থীর কেউ পাস না করার বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ এটিকে ‘লজ্জার কথা’ বলে মন্তব্য করেন এবং এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন।

এদিকে ফুলবাড়িয়ার শহীদ স্মৃতি গার্লস হাইস্কুল থেকেও এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পাঁচজন শিক্ষার্থীর কেউ পাস করেনি। তাঁদের পাঠদানের জন্য বিদ্যালয়ে শিক্ষক ছিলেন সাতজন। ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বর্তমানে প্রায় ৯৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রধান শিক্ষক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি ফল খারাপ হওয়ার অন্যতম কারণ। অভিভাবকদের নিয়ে সভা করেও কাঙ্ক্ষিত সাড়া পাওয়া যায়নি। শিক্ষার্থীদের মুঠোফোনে আসক্তির কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য, এ ফলাফলের দায় শিক্ষকদেরও রয়েছে। শিক্ষকদের বেতন দিতে না পারায় তাঁদের ওপর প্রয়োজনীয় চাপ প্রয়োগ করা সম্ভব হয়নি।

মুক্তাগাছা মহাবিদ্যালয়ের মাধ্যমিক শাখায় চার বছর ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ। কিন্তু এবার ওই প্রতিষ্ঠানের নামে চারজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাঁদের কেউই পাস করেনি। জানা গেছে, এমএন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ নামের একটি অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মুক্তাগাছা মহাবিদ্যালয়ের নামে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

মুক্তাগাছা মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বজরং আগারওয়ালা বলেন, মানবিক কারণে আগের অধ্যক্ষ ওই শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিয়েছিলেন। তবে এবার চারজন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছে—এ বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না।

ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. শাহাদত উল্লাহ বলেন, বোর্ডের আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ফরম পূরণ করা হয়েছে। তাই এ ঘটনার দায়ভার প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের। নিজস্ব শিক্ষার্থী না থাকা সত্ত্বেও অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দেওয়ানো অনিয়ম ও তথ্য গোপনের শামিল। প্রতিষ্ঠানটিকে তলব করা হবে এবং সন্তোষজনক জবাব না পেলে স্বীকৃতি বাতিলের সুপারিশ করা হতে পারে।

কমেছে বোর্ডের পাসের হার এবার ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৫৩ হাজার ৮৭৭ জন ছাত্রের মধ্যে পাস করেছে ২৮ হাজার ৩৭২ জন। পাসের হার ৫২ দশমিক ৬৬ শতাংশ। ৫১ হাজার ১৫১ জন ছাত্রীর মধ্যে পাস করেছে ৩১ হাজার ৯০২ জন। তাঁদের পাসের হার ৬২ দশমিক ৩৭ শতাংশ। ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের পাসের হার ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ বেশি। জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও মেয়েরা এগিয়ে। এবার বোর্ডে ৫ হাজার ৭০০ শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর মধ্যে ছাত্র ২ হাজার ৬২১ এবং ছাত্রী ৩ হাজার ৭৯ জন।

গত বছর বোর্ডে পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ২২ শতাংশ। এবার তা কমে হয়েছে ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ। ২০২৩ সালে পাসের হার ছিল ৮৫ দশমিক ৪৯ এবং ২০২৪ সালে ৮৫ শতাংশ। ফলে গত দুই বছরের তুলনায় পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কম। বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৭১ দশমিক ৮৭ শতাংশ, ব্যবসায় শিক্ষায় ৪৮ দশমিক ৯৯ শতাংশ এবং মানবিকে ৪৬ দশমিক ১২ শতাংশ।

ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক মো. এনামুল হক বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কিছুটা কমেছে। বিশেষ করে ইংরেজি ও গণিতে শিক্ষার্থীদের ফল তুলনামূলক খারাপ হয়েছে।