ঢাকা ০৬:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সাভারে উপজেলা পর্যায়ে গুণী শিক্ষক নির্বাচিত মোহাম্মদ নূর উদ্দিন

অপহরণকারীদের দেওয়া তথ্যে ফ্ল্যাট থেকে কলেজছাত্রের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার


বঙ্গ সংবাদ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ১২:১৮:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২০৮৯ বার পড়া হয়েছে

নিখোঁজের চার দিন পর সুদীপ্ত রায় (১৭) নামে ক্যামব্রিয়ান কলেজের এক শিক্ষার্থীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর শাহ আলী থানাধীন তুরাগ সিটি এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

ভাটারা থানা–পুলিশ জানায়, সুদীপ্তকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সে বারিধারায় ক্যামব্রিয়ান কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ভাটারার শহীদ আব্দুল আজিজ সড়কে ক্যামব্রিয়ান কলেজের হোস্টেলে থাকত সে।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় দুজনকে টাঙ্গাইলের মধুপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনের একজন সুদীপ্তর পরিচিত। সুদীপ্তকে বাসায় ডেকে নিয়ে আটকে রেখে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ চেয়েছিলেন গ্রেপ্তার দুজন।

ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাসমত আলী  বলেন, সুদীপ্ত নিখোঁজ হন গত শুক্রবার বিকেলে। ওই দিন রাতে মুঠোফোনে সুদীপ্তের পরিবারের কাছে ৮০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আবদুল্লাহ (২২) ও জুনায়েদ দেওয়ান (২২) নামে দুই যুবককে শনাক্ত করে তাঁদের টাঙ্গাইলের মধুপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার বিকেলে তুরাগ সিটিতে নির্মাণাধীন একটি ১০ তলা ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে সুদীপ্তের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে এসআই হাসমত বলেন, গ্রেপ্তার দুজন ময়মনসিংহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে পাস করে ঢাকায় চাকরির জন্য এসেছিলেন। তাঁরা দিয়াবাড়ির ওই ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকেন। তাঁদের মধ্যে আবদুল্লাহর বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ে। নিহত সুদীপ্ত রায়ের বাড়িও ঠাকুরগাঁওয়ে। একই এলাকার হওয়ায় আগে থেকেই দুজনের পরিচয় ছিল।

এসআই হাসমত বলেন, ওই পরিচয়ের সূত্র ধরে শুক্রবার বিকেলে মুঠোফোনে সুদীপ্তকে দিয়াবাড়ির ফ্ল্যাটে ডেকে নেন আবদুল্লাহ। সেখানে যাওয়ার পর রাতে কৌশলে সুদীপ্তর মুঠোফোন নিয়ে নেন তিনি। সুদীপ্ত ঘুমানোর পর গ্রেপ্তার দুজন পরিবারের কাছে ৮০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চান।

এসআই হাসমত বলেন, সকালে সুদীপ্ত নিজের মুঠোফোন খুঁজে পাচ্ছিলেন না। তখন আবদুল্লাহ ও জুনায়েদ মুঠোফোনটি দিতে চাননি। একপর্যায়ে মুঠোফোন নিয়ে সুদীপ্ত তাঁর বাবার সঙ্গে কথা বলেন। তখন সুদীপ্তকে তাঁর বাবা রাতে ৮০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়ার কথা জানান। পরে এ নিয়ে আবদুল্লাহ ও জুনায়েদের সঙ্গে কথা–কাটাকাটি হয় সুদীপ্তর।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, কথা–কাটাকাটির এক পর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে সুদীপ্তর গলায় আঘাত করেন আবদুল্লাহ। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে সুদীপ্তর গলায় আরও আঘাত করা হয়। সুদীপ্তর মৃত্যুর পর মরদেহ গুম করার চেষ্টা করেন দুজন। কিন্তু সেটি না পেরে তাঁরা সেখান থেকে পালিয়ে যান।

এদিকে গত শনিবার সুদীপ্তর বাবা হিমাংশু কুমার রায় বাদী হয়ে ভাটারা থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলার সূত্র ধরেই হত্যাকারীদের শনাক্ত করা হয় বলে জানান এসআই হাসমত।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

অপহরণকারীদের দেওয়া তথ্যে ফ্ল্যাট থেকে কলেজছাত্রের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

আপডেট সময় : ১২:১৮:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫

নিখোঁজের চার দিন পর সুদীপ্ত রায় (১৭) নামে ক্যামব্রিয়ান কলেজের এক শিক্ষার্থীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর শাহ আলী থানাধীন তুরাগ সিটি এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

ভাটারা থানা–পুলিশ জানায়, সুদীপ্তকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সে বারিধারায় ক্যামব্রিয়ান কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ভাটারার শহীদ আব্দুল আজিজ সড়কে ক্যামব্রিয়ান কলেজের হোস্টেলে থাকত সে।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় দুজনকে টাঙ্গাইলের মধুপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনের একজন সুদীপ্তর পরিচিত। সুদীপ্তকে বাসায় ডেকে নিয়ে আটকে রেখে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ চেয়েছিলেন গ্রেপ্তার দুজন।

ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাসমত আলী  বলেন, সুদীপ্ত নিখোঁজ হন গত শুক্রবার বিকেলে। ওই দিন রাতে মুঠোফোনে সুদীপ্তের পরিবারের কাছে ৮০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আবদুল্লাহ (২২) ও জুনায়েদ দেওয়ান (২২) নামে দুই যুবককে শনাক্ত করে তাঁদের টাঙ্গাইলের মধুপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার বিকেলে তুরাগ সিটিতে নির্মাণাধীন একটি ১০ তলা ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে সুদীপ্তের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে এসআই হাসমত বলেন, গ্রেপ্তার দুজন ময়মনসিংহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে পাস করে ঢাকায় চাকরির জন্য এসেছিলেন। তাঁরা দিয়াবাড়ির ওই ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকেন। তাঁদের মধ্যে আবদুল্লাহর বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ে। নিহত সুদীপ্ত রায়ের বাড়িও ঠাকুরগাঁওয়ে। একই এলাকার হওয়ায় আগে থেকেই দুজনের পরিচয় ছিল।

এসআই হাসমত বলেন, ওই পরিচয়ের সূত্র ধরে শুক্রবার বিকেলে মুঠোফোনে সুদীপ্তকে দিয়াবাড়ির ফ্ল্যাটে ডেকে নেন আবদুল্লাহ। সেখানে যাওয়ার পর রাতে কৌশলে সুদীপ্তর মুঠোফোন নিয়ে নেন তিনি। সুদীপ্ত ঘুমানোর পর গ্রেপ্তার দুজন পরিবারের কাছে ৮০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চান।

এসআই হাসমত বলেন, সকালে সুদীপ্ত নিজের মুঠোফোন খুঁজে পাচ্ছিলেন না। তখন আবদুল্লাহ ও জুনায়েদ মুঠোফোনটি দিতে চাননি। একপর্যায়ে মুঠোফোন নিয়ে সুদীপ্ত তাঁর বাবার সঙ্গে কথা বলেন। তখন সুদীপ্তকে তাঁর বাবা রাতে ৮০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়ার কথা জানান। পরে এ নিয়ে আবদুল্লাহ ও জুনায়েদের সঙ্গে কথা–কাটাকাটি হয় সুদীপ্তর।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, কথা–কাটাকাটির এক পর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে সুদীপ্তর গলায় আঘাত করেন আবদুল্লাহ। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে সুদীপ্তর গলায় আরও আঘাত করা হয়। সুদীপ্তর মৃত্যুর পর মরদেহ গুম করার চেষ্টা করেন দুজন। কিন্তু সেটি না পেরে তাঁরা সেখান থেকে পালিয়ে যান।

এদিকে গত শনিবার সুদীপ্তর বাবা হিমাংশু কুমার রায় বাদী হয়ে ভাটারা থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলার সূত্র ধরেই হত্যাকারীদের শনাক্ত করা হয় বলে জানান এসআই হাসমত।