ঢাকা ০৫:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সাভারে উপজেলা পর্যায়ে গুণী শিক্ষক নির্বাচিত মোহাম্মদ নূর উদ্দিন

জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলার নথি চুরির অভিযোগ, নতুন করে মামলা


বঙ্গ সংবাদ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ১২:৪৫:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ২০৯৭ বার পড়া হয়েছে

ছবি: সংগৃহীত

জুলাই হত্যাকাণ্ডের একটি মামলার নথি চুরি করে তিনটি ভুয়া মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে ঢাকার সিএমএম আদালতে। এসব মামলাকে ব্যবহার করে চাঁদাবাজির অভিযোগ জানিয়ে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি।

আইনজীবীরা বলছেন, শুরু থেকেই যদি জুলাই–আগস্ট গণ-আন্দোলনের মামলাগুলোর দায়ভার সরকারিভাবে নেওয়া হতো, তাহলে এমন অসাধু চক্রের সুযোগ সৃষ্টি হতো না। মিথ্যা মামলার মাধ্যমে হয়রানি বন্ধে গণ-অভ্যুত্থানের সব মামলা ও গ্রেপ্তারের বিষয়ে তদন্তের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

জুলাই হত্যাকাণ্ড ঘিরে মামলা বাণিজ্যের অভিযোগ উঠে আসে আদালতের এক শুনানিতে। এ সময় সাক্ষ্য দেন ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বাহ্রা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মামলার পর অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। যোগাযোগ করা হলে এক আসামি অভিযোগ করেন, অর্থ আদায় ও ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।

আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহবুব রানা অভিযোগ করেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ইফাত, সাগর ও রাসেল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আলাদা তিনটি মামলা করা হয়। একটি চক্র আদালত থেকেই এসব মামলার দলিল-দস্তাবেজ সংগ্রহ করে। পরে একই হত্যাকাণ্ডকে ভিন্ন ভিন্ন ঘটনাস্থল দেখিয়ে নতুন করে মামলার আবেদন করা হয়।

অভিযুক্ত তিনটি মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট জোবায়ের আল মাহমুদ। ভুয়া নথিপত্রের মাধ্যমে মামলা দায়েরের বিষয়ে আদালত তার কাছে ব্যাখ্যা তলব করেন। এ সময় তিনি দাবি করেন, বাদীর ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দেওয়া ও মিথ্যার আশ্রয় নেওয়ার বিষয়টি তিনি বুঝতে পারেননি।

অ্যাডভোকেট জোবায়ের আল মাহমুদ বলেন, ‘মামলা বাণিজ্যের কথা বাংলাদেশের একজন আইনজীবী বলতে পারবে? ওই মামলাগুলোর তো আদেশই হয়নি। আমি আমার পেশাদার দায়িত্ব থেকে মামলা করেছি। বাদী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে আদালত মামলাগুলো খারিজ করে দেন।’

এ বিষয়ে সিনিয়র আইনজীবী সৈয়দ মো. জয়নাল আবেদীন মেসবাহ বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সব মামলা যদি সরকারের পক্ষ থেকে করা হতো, তাহলে প্রতারক চক্রের উত্থান ঘটত না।

তিনি আরও বলেন, ‘আইন মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে সঠিক তথ্য যাচাই করে মামলা দায়ের করা হলে আজকের এই চাঁদাবাজি চলত না। কোন এলাকায় কারা এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত, তা ওপেন সিক্রেট।’

মিথ্যা মামলার মাধ্যমে হয়রানি বন্ধে জুলাই আন্দোলনসংক্রান্ত সব মামলা ও গ্রেপ্তারের বিষয়ে তদন্ত করার পরামর্শ দেন তিনি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলার নথি চুরির অভিযোগ, নতুন করে মামলা

আপডেট সময় : ১২:৪৫:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

জুলাই হত্যাকাণ্ডের একটি মামলার নথি চুরি করে তিনটি ভুয়া মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে ঢাকার সিএমএম আদালতে। এসব মামলাকে ব্যবহার করে চাঁদাবাজির অভিযোগ জানিয়ে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি।

আইনজীবীরা বলছেন, শুরু থেকেই যদি জুলাই–আগস্ট গণ-আন্দোলনের মামলাগুলোর দায়ভার সরকারিভাবে নেওয়া হতো, তাহলে এমন অসাধু চক্রের সুযোগ সৃষ্টি হতো না। মিথ্যা মামলার মাধ্যমে হয়রানি বন্ধে গণ-অভ্যুত্থানের সব মামলা ও গ্রেপ্তারের বিষয়ে তদন্তের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

জুলাই হত্যাকাণ্ড ঘিরে মামলা বাণিজ্যের অভিযোগ উঠে আসে আদালতের এক শুনানিতে। এ সময় সাক্ষ্য দেন ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বাহ্রা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মামলার পর অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। যোগাযোগ করা হলে এক আসামি অভিযোগ করেন, অর্থ আদায় ও ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।

আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহবুব রানা অভিযোগ করেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ইফাত, সাগর ও রাসেল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আলাদা তিনটি মামলা করা হয়। একটি চক্র আদালত থেকেই এসব মামলার দলিল-দস্তাবেজ সংগ্রহ করে। পরে একই হত্যাকাণ্ডকে ভিন্ন ভিন্ন ঘটনাস্থল দেখিয়ে নতুন করে মামলার আবেদন করা হয়।

অভিযুক্ত তিনটি মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট জোবায়ের আল মাহমুদ। ভুয়া নথিপত্রের মাধ্যমে মামলা দায়েরের বিষয়ে আদালত তার কাছে ব্যাখ্যা তলব করেন। এ সময় তিনি দাবি করেন, বাদীর ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দেওয়া ও মিথ্যার আশ্রয় নেওয়ার বিষয়টি তিনি বুঝতে পারেননি।

অ্যাডভোকেট জোবায়ের আল মাহমুদ বলেন, ‘মামলা বাণিজ্যের কথা বাংলাদেশের একজন আইনজীবী বলতে পারবে? ওই মামলাগুলোর তো আদেশই হয়নি। আমি আমার পেশাদার দায়িত্ব থেকে মামলা করেছি। বাদী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে আদালত মামলাগুলো খারিজ করে দেন।’

এ বিষয়ে সিনিয়র আইনজীবী সৈয়দ মো. জয়নাল আবেদীন মেসবাহ বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সব মামলা যদি সরকারের পক্ষ থেকে করা হতো, তাহলে প্রতারক চক্রের উত্থান ঘটত না।

তিনি আরও বলেন, ‘আইন মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে সঠিক তথ্য যাচাই করে মামলা দায়ের করা হলে আজকের এই চাঁদাবাজি চলত না। কোন এলাকায় কারা এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত, তা ওপেন সিক্রেট।’

মিথ্যা মামলার মাধ্যমে হয়রানি বন্ধে জুলাই আন্দোলনসংক্রান্ত সব মামলা ও গ্রেপ্তারের বিষয়ে তদন্ত করার পরামর্শ দেন তিনি।