ঢাকা ০৬:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সাভারে উপজেলা পর্যায়ে গুণী শিক্ষক নির্বাচিত মোহাম্মদ নূর উদ্দিন

চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিক-কর্মচারীরা এনসিটি ইজারার প্রতিবাদে ধর্মঘটে


নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৩:০৮:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ২০৮৬ বার পড়া হয়েছে

সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) দুবাইভিত্তিক অপারেটর ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’-কে ইজারা দেয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বন্দর শ্রমিক-কর্মচারীরা শনিবার (৩১ জানুয়ারি) থেকে সর্বাত্মক ধর্মঘট পালন করছেন।

শ্রমিক ধর্মঘটের কারণে দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ পরিচালিত এই সমুদ্রবন্দর কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। বন্দরের সব প্রবেশদ্বারই শুনশান, কোনো পণ্যবাহী ট্রাক বা কাভার্ডভ্যান প্রবেশ বা বহির্গমন হয়নি।

শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন, কর্মীরা কর্মস্থলে হাজিরা দিয়েছে, তবে কোনো ধরনের কাজ করেনি। সকাল ১১টার দিকে শ্রমিক সংগঠনগুলো বন্দর এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে এবং সরকারকে এনসিটির বিদেশি অপারেটরের হাতে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে।

এক শ্রমিক নেতা বলেন, “আমরা হাজিরা দিয়েছি, কিন্তু কাজ করছি না। সরকারের এই সিদ্ধান্ত দেশীয় অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। আমরা চাই সরকার সরে আসুক, না হলে কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।”

অন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন টার্মিনাল বা লালদিয়ার চরে কাজ দেওয়া নিয়ে তাদের আপত্তি নেই। কিন্তু শতভাগ দেশীয় তহবিল ও লাভজনক এনসিটি বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত অগ্রহণযোগ্য। তারা মন্তব্য করেছেন, “চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশিদের হাতে দিয়ে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে।”

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সকাল থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বন্দরের সামনে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

শ্রমিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, সরকার সরে না এলে বহির্নোঙরেও পণ্য খালাস বন্ধ করা হবে। তারা পূর্বঘোষিত দুই দিনের ধর্মঘটের অংশ হিসেবে রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দফতরিক কাজও স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিক-কর্মচারীরা এনসিটি ইজারার প্রতিবাদে ধর্মঘটে

আপডেট সময় : ০৩:০৮:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) দুবাইভিত্তিক অপারেটর ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’-কে ইজারা দেয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বন্দর শ্রমিক-কর্মচারীরা শনিবার (৩১ জানুয়ারি) থেকে সর্বাত্মক ধর্মঘট পালন করছেন।

শ্রমিক ধর্মঘটের কারণে দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ পরিচালিত এই সমুদ্রবন্দর কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। বন্দরের সব প্রবেশদ্বারই শুনশান, কোনো পণ্যবাহী ট্রাক বা কাভার্ডভ্যান প্রবেশ বা বহির্গমন হয়নি।

শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন, কর্মীরা কর্মস্থলে হাজিরা দিয়েছে, তবে কোনো ধরনের কাজ করেনি। সকাল ১১টার দিকে শ্রমিক সংগঠনগুলো বন্দর এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে এবং সরকারকে এনসিটির বিদেশি অপারেটরের হাতে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে।

এক শ্রমিক নেতা বলেন, “আমরা হাজিরা দিয়েছি, কিন্তু কাজ করছি না। সরকারের এই সিদ্ধান্ত দেশীয় অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। আমরা চাই সরকার সরে আসুক, না হলে কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।”

অন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন টার্মিনাল বা লালদিয়ার চরে কাজ দেওয়া নিয়ে তাদের আপত্তি নেই। কিন্তু শতভাগ দেশীয় তহবিল ও লাভজনক এনসিটি বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত অগ্রহণযোগ্য। তারা মন্তব্য করেছেন, “চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশিদের হাতে দিয়ে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে।”

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সকাল থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বন্দরের সামনে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

শ্রমিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, সরকার সরে না এলে বহির্নোঙরেও পণ্য খালাস বন্ধ করা হবে। তারা পূর্বঘোষিত দুই দিনের ধর্মঘটের অংশ হিসেবে রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দফতরিক কাজও স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।