ঢাকা ০৮:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

শিক্ষায় শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর আইন, রাতে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন


বঙ্গ সংবাদ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০৫:৩২:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
  • / ২০৯০ বার পড়া হয়েছে

শিক্ষাবোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরীক্ষার পাশাপাশি বিসিএসসহ সব ধরনের নিয়োগ পরীক্ষাকেও এখন থেকে ‘পাবলিক পরীক্ষা’ হিসেবে গণ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পরীক্ষাসংক্রান্ত কাগজপত্রে ঘষামাজা, জালিয়াতি বা টেম্পারিংয়ের পাশাপাশি মোবাইল ফোন, স্মার্টওয়াচ, ব্লুটুথ, হেডফোনসহ যেকোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারকে ‘ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন’ হিসেবে অপরাধের আওতায় আনা হচ্ছে।

এসব পরিবর্তন যুক্ত করে ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) অ্যাক্ট, ১৯৮০’ সংশোধনের খসড়া চূড়ান্ত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সংশোধিত খসড়ায় বলা হয়েছে, পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল বা মেধাতালিকায় জালিয়াতি বা পরিবর্তন করলে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড, ১ কোটি টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া হবে।

এ ছাড়া পরীক্ষাকেন্দ্রে নিষিদ্ধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস বহন বা ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড বা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

খসড়ায় ‘রিকগনাইজড অথরিটি’ বা ‘স্বীকৃত কর্তৃপক্ষ’ নামে নতুন একটি ধারণা যুক্ত করা হয়েছে, যার আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা বোর্ডসহ বিভিন্ন সংস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। একই সঙ্গে পরীক্ষার ফলাফল বা মেধাতালিকায় হ্যাকিং বা অবৈধ হস্তক্ষেপকে ‘ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন’ হিসেবে চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

সংগঠিতভাবে প্রশ্নফাঁস বা পরীক্ষা জালিয়াতির চক্র গঠন করলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অপরাধীদের অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার বিধানও রাখা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, আজ (২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিতব্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে খসড়াটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে।

প্রস্তাবিত সংশোধনের সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, প্রায় ৪৫ বছর আগে প্রণীত বিদ্যমান আইনটি বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বাস্তবতায় অনেকাংশেই অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বিসিএসসহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষাগুলো আইনের আওতার বাইরে থাকায় নতুন করে সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

আগামী ২১ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে নকল ও অনিয়মমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধ প্রতিরোধে আইনটি দ্রুত সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, খসড়া আইনটি জনমত যাচাইয়ের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। তবে সময় স্বল্পতার কারণে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটিতে এটি উপস্থাপন করা হয়নি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

শিক্ষায় শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর আইন, রাতে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন

আপডেট সময় : ০৫:৩২:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

শিক্ষাবোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরীক্ষার পাশাপাশি বিসিএসসহ সব ধরনের নিয়োগ পরীক্ষাকেও এখন থেকে ‘পাবলিক পরীক্ষা’ হিসেবে গণ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পরীক্ষাসংক্রান্ত কাগজপত্রে ঘষামাজা, জালিয়াতি বা টেম্পারিংয়ের পাশাপাশি মোবাইল ফোন, স্মার্টওয়াচ, ব্লুটুথ, হেডফোনসহ যেকোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারকে ‘ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন’ হিসেবে অপরাধের আওতায় আনা হচ্ছে।

এসব পরিবর্তন যুক্ত করে ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) অ্যাক্ট, ১৯৮০’ সংশোধনের খসড়া চূড়ান্ত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সংশোধিত খসড়ায় বলা হয়েছে, পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল বা মেধাতালিকায় জালিয়াতি বা পরিবর্তন করলে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড, ১ কোটি টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া হবে।

এ ছাড়া পরীক্ষাকেন্দ্রে নিষিদ্ধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস বহন বা ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড বা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

খসড়ায় ‘রিকগনাইজড অথরিটি’ বা ‘স্বীকৃত কর্তৃপক্ষ’ নামে নতুন একটি ধারণা যুক্ত করা হয়েছে, যার আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা বোর্ডসহ বিভিন্ন সংস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। একই সঙ্গে পরীক্ষার ফলাফল বা মেধাতালিকায় হ্যাকিং বা অবৈধ হস্তক্ষেপকে ‘ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন’ হিসেবে চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

সংগঠিতভাবে প্রশ্নফাঁস বা পরীক্ষা জালিয়াতির চক্র গঠন করলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অপরাধীদের অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার বিধানও রাখা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, আজ (২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিতব্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে খসড়াটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে।

প্রস্তাবিত সংশোধনের সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, প্রায় ৪৫ বছর আগে প্রণীত বিদ্যমান আইনটি বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বাস্তবতায় অনেকাংশেই অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বিসিএসসহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষাগুলো আইনের আওতার বাইরে থাকায় নতুন করে সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

আগামী ২১ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে নকল ও অনিয়মমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধ প্রতিরোধে আইনটি দ্রুত সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, খসড়া আইনটি জনমত যাচাইয়ের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। তবে সময় স্বল্পতার কারণে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটিতে এটি উপস্থাপন করা হয়নি।